বাংলাদেশ

আরও একটি জঙ্গি দল নিষিদ্ধ করলো সরকার

দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় জঙ্গি দল জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়াকে নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

বুধবার (৯ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক-২ শাখা এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারের কাছে এ মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামক জঙ্গি দল/সংগঠনটির ঘোষিত কার্যক্রম দেশের শান্তি শৃঙ্খলা পরিপিন্থি। ইতোমধ্যে দল/সংগঠনটির কার্যক্রম জননিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হওয়ায় বাংলাদেশে এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল।

জঙ্গি তৎপরতার কারণে এ নিয়ে বাংলাদেশে নয়টি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হল। এর আগে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি), শাহাদাৎ-ই আল-হিকমা, হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, আনসার আল ইসলাম এবং আল্লাহর দল-কে নিষিদ্ধ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ বিএনপির নিবন্ধন বাতিলে নির্বাচন কমিশনে যুবলীগের স্মারকলিপি

গত বছরের ২৩ আগস্ট কুমিল্লা সদর এলাকা থেকে আট জন তরুণ নিখোঁজ হন। ওই ঘটনায় নিখোঁজ তরুণদের পরিবার কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। ওই আট তরুণের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে র‍্যাব “জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া” নামক একটি নতুন জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় থাকার তথ্য পায়। র‍্যাব জানতে পারে, এই সংগঠনের সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কেএনএফ’-এর সহায়তায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

অক্টোবরের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ইতোমধ্যে নতুন এই জঙ্গি সংগঠনের আমীর আনিসুর রহমান মাহমুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ সর্বমোট ৮২ জন এবং পাহাড়ে অবস্থান, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রমে জঙ্গিদের সহায়তার জন্য পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কেএনএফ’-এর ১৭ জন নেতা ও সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়।

র‍্যাব নতুন এই জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম সম্বন্ধে তথ্যাদি সর্বপ্রথম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার জন্য আবেদন করে। এই প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’-এর কার্যক্রম জননিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হওয়ায় সংগঠনটিকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  কৃষি মার্কেটে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে জামায়াতের অর্থ বিতরণ

এসব সংগঠনের মধ্যে জেএমবিসহ চারটি দল নিষিদ্ধ হয় ২০০৫ সালে। বোমা হামলা করে বিচারক হত্যার দায়ে জেএমবির শীর্ষনেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাইর ফাঁসি হয়। আর উগ্রপন্থা প্রচারের জন্য ২০০৯ সালে নিষিদ্ধ করা হয় হিযবুত তাহরীরকে।

আরও পড়ুনঃ সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারে নেমে ২ ভাইয়ের পর বাবার মৃত্যু

২০১৩ সালে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডের পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের তৎপরতার খবর আসে। ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে আছেন সংগঠনটির আমির মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানী। তার দুই অনুসারীর মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন এবং আরও চারজনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজার রায় হয়েছে।

২০১৫ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নিষিদ্ধ হওয়ার পর এর সদস্যরাই সেনাবাহিনীতে ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার পরিকল্পনাকারী বরখাস্ত মেজর জিয়াউল হকের নেতৃত্বে আনসার আল ইসলাম নামে তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন। ২০১৭ সালের মার্চে আনসার আল ইসলামকেও নিষিদ্ধ করে সরকার।

১৯৯৫ সালে গঠিত হয়েছিলো আল্লাহর দল। ২০০৪ সালের শেষ দিকে সংগঠনটি জেএমবির সঙ্গে একীভূত হয়। পরের বছর ১৭ অগাস্ট সারাদেশে জেএমবির বোমা হামলায় আল্লাহর দলের সংশ্লিষ্টতা ছিলো বলে তথ্য পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জেএমবি দুর্বল হয়ে পড়লে আল্লার দল সক্রিয় হয়ে ওঠে এর আমির মতিন মেহেদীর নেতৃত্বে। ২০১৪ সালে আল্লার দলের নাম পরিবর্তন করে ‘আল্লার সরকার’ রাখা হয়। তবে এরপর কয়েক বছর সংগঠনটির তেমন কোন তৎপরতা দৃশ্যমান হয়নি।

২০১৯ সালে জেএমবির সহযোগিতায় ‘আল্লাহর দল’ নতুন করে সংগঠিত হয়ে উঠছে বলে তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ওই সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আমির ইব্রাহিম আহমেদ হিরোসহ আট জ্যেষ্ঠ নেতা র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। এরপর ওই বছর ৬ নভেম্বর আল্লাহর দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *