ঢাকা

হৃদরোগ হাসপাতালের আনসারদের অত্যাচারে মায়ের মৃত্যু, ছেলে পঙ্গু

ঢাকার হৃদরোগ হাসপাতালের CCU তে ভর্তি মায়ের মৃত্যু হয়েছে আনসারদের অত্যাচারের কারণে। মায়ের জরুরী রক্তের জন্য আনসার সদস্যদের কাছে টাকা চাইলে তারা মারধর শুরু করে দেয়। এতে মায়ের ছেলেসহ তার পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হন।

ভুক্তভোগী ছেলের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তার মা হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। গতকাল সকালে তাকে হৃদরোগ হাসপাতালের CCU তে ভর্তি করা হয়। মায়ের চিকিৎসার জন্য বারবার বাইরে যেতে হচ্ছিল। প্রতিবারই আনসার সদস্যদের কাছে টাকা দিতে হচ্ছিল।

বিকেলে মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে ডাক্তার জরুরী রক্ত দিতে বলেন। রক্ত কিনে CCU তে ঢুকতে গেলে আনসার সদস্যরা ৫০ টাকার জন্য আটকে দেয়। ছেলেটি বলে, “আমি সকাল থেকে তিনবার টাকা দিয়েছি। এখন আর টাকা নেই।” শুনেই আনসার সদস্যরা তাকে মারধর শুরু করে দেয়।

মারধর থেকে ছেলেটিকে বাঁচাতে এসে তার বাবা, বড়ভাই, বোন ও খালাও আহত হন। এদিকে রক্তের অভাবে মায়ের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। আনসাররা তাদের বাথরুমে আটকে রেখে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে শুনতে পান মা মারা গেছেন।

মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছেলেটি পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের পরিচালকের কাছে অভিযোগ করেছেন। পরিচালক জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিক্রিয়া:

এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এ ঘটনাকে “ন্যাক্কারজনক” বলে অভিহিত করেছেন। তারা আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আবদুল হামিদ, ঢাকা: এই ঘটনায় আমি মর্মাহত। একজন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার জন্য আনসার সদস্যদের কাছে টাকা চাওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সাইমা আক্তার, ঢাকা: এই ঘটনাটি আমাদের দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। হাসপাতালের আনসার সদস্যদের এমন আচরণে রোগীদের ও তাদের স্বজনদের মনে ভয় ঢুকে যায়। এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হয়।

আরও পড়ুনঃ  এখনই সতর্ক না হলে বেইলি রোডের ঘ্রাণ ছড়াবে গুলশান বনানীতেও

আশরাফুল আলম, ঢাকা: এই ঘটনাটি আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবনতিরও বহিঃপ্রকাশ। আনসার সদস্যরা সরকারি বাহিনীর সদস্য। তাদের এমন আচরণে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *