বাংলাদেশ

৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় কোর্ট ফি ২৭ লাখের যোগান দাতা কারা?

ঢাকা, ০৭ আগস্ট ২০২৩: আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানীর মামলা দায়ের করেছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা দাবি করে মানহানির মামলা করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে তিনি এ মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এরপর তার আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মনসুর মামলার আবেদন করেন। মামলার আবেদনে চারজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এরপর আদালত হিরো আলমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলার অভিযোগ তদন্ত করে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

হিরো আলম রিজভীর বিরুদ্ধে করা ৫০ কোটি টাকার
মানহানির মামলা দায়ের করেছে। এই মামলা সে করতেই পারে। কিন্তু কথা হচ্ছে ৫০ কোটি টাকার মানহানীর মামলা দায়ের করতে হলে ২৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা কোর্ট ফি দিতে হয়। হিসাবটা হচ্ছে প্রতি এক কোটির জন্য ৫৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ হাজার টাকা কোর্ট ফি দিতে হয়। তাহলে এই ২৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বেহুদা খরচ করার জন্যে হিরো আলম পেলেন কোথায়? বা কে অথবা কারা এ’টাকার যোগান দাতা?

আদালত মামলাটি আমলে গ্রহণ করে রিজভীকে ১৩ আগস্টের মধ্যে আদালতে হাজিরা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে হিরো আলমের সাহসকে প্রশংসা করছেন, আবার অনেকে তাকে রিজভীর বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য সমালোচনা করছেন।

রিজভী হিরো আলমের মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে, তিনি হিরো আলমকে কোনওভাবে অপমান করার উদ্দেশ্যে কথা বলেননি। তিনি বলেন যে, তিনি হিরো আলমকে একটি উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন এবং তার কথার উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে সচেতন করা।

আরও পড়ুনঃ  ইন্দোনেশিয়ায় উড়াল দিলেন রাষ্ট্রপতি

মামলাটি আগামীতে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হবে বলে মনে হচ্ছে।


আসুন জেনে নেই মানহানি মামলা কি বা কেন করা হয়?

দন্ডবিধিতে মানহানির ফৌজদারি মামলা করতে হয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। আর ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি মামলা করতে হয় সিভিল কোর্টে। এক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের টাকা দাবির বিপরীতে নির্দিষ্ট অঙ্কের কোর্ট ফি দিতে হয়, যার সর্বোচ্চ পরিমাণ ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশে মানহানি মামলা নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে বা চূড়ান্ত পর্যায়ে গেছে এমন নজির খুবই কম। নিম্ন আদালতে যে কোনো একটি মানহানির মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে সেটি খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেল ২০০৩ সালের একটি মামলা, যা চলেছে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। ২০০৩ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে দায়িত্বে থাকা সম্পাদক প্রয়াত গোলাম সারওয়ার এবং পত্রিকার প্রকাশক ও মালিকের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে মানহানি মামলা হয়। তৎকালীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের করা ফৌজদারি মামলায় ২০১৪ সালে অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। জানা যায় আর্থিক ক্ষতিপূরণের মামলাটিও আপসে প্রত্যাহার করে নেন বাদীপক্ষ। ওই মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান জানিয়েছেন, মানহানির অধিকাংশ মামলারই পরিণতি এমন।

নিম্ন আদালতে দীর্ঘ ৩৩ বছরের আইন পেশার অভিজ্ঞতায় বেশ কয়েকটি মানহানি মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে মোখলেসুর রহমানের। তিনি জানান, এসব মামলায় নিষ্পত্তির হার খুবই কম। মামলা প্রমাণ করাও বেশ কঠিন।

মোঃ নূরে আলম
সম্পাদক
রেনেসাঁ টাইমস ডট কম

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *