রাজনীতি

সাংবাদিক কাজল ‘গুম’ হওয়ার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল বিএনপির তারুণ্যের সমাবেশে নিজের ‘গুম’ হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “এই ফ্যাসিবাদ আমার মতো বহু মানুষকে গুম করে ফেলেছে। আমার ভাগ্য ভালো ছিল। এজন্য গুম অবস্থা থেকে ফিরে আসতে পেরেছি।”

গুম হওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কাজল বলেন, “চোখ বাঁধা অবস্থায় আমাকে গুম সেন্টার থেকে বের করে নিয়ে আসা হয়। হাতে ছিল হ্যান্ডকাফ। এই গুম সেন্টারকে কেউ বলছেন আয়নাঘর। কেউ আরও অনেক নাম বলছেন। আমাকে যখন গুম সেন্টার থেকে বের করে বেলা ১২টার দিকে, রোজার দিন, তার দুই দিন আগে, আমি হ্যান্ডকাফ পরে নামাজ পড়ছি। আমি শুধু বলি আল্লাহ আমাকে এ জায়গা থেকে বের করো, অথবা আমার মৃত্যুর ব্যবস্থা করে দাও। এমন সময় আমি সাংঘাতিকভাবে শ্বাস নিচ্ছি। অনেক চাপা শ্বাস। সেসময় আমার গলায় পাড়া দিয়ে ধরে, আমি তাদের বলি ভাই আমি যদি কোনো অন্যায় করি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি, হয় আমাকে হত্যা করুন, অথবা আমাকে মুক্তি দিন।”

“দুদিন পরই আমাকে বের করে নেয়। আমি তখন ভাবি হয়তো আমি চিরদিনের জন্য দুনিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছি, অথবা আমার মুক্তি হবে। মাঝরাতে একটি প্রাডো গাড়িতে করে নিয়ে যায় বেনাপোলে। হাতে হাতকড়া, চোখ বাঁধা অবস্থায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি। এরপর আমাকে একটি খাদের মধ্যে নামিয়ে দিল। আমি তখন ভেবে নিয়েছি আমাকে ক্রসফায়ার করবে, আমি আল্লাহর নাম ডাকতে থাকি। অবেশেষে আল্লাহ আমার ডাক শুনেছেন। আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে কাজল বলেন, “বর্তমান সরকার মানুষের জবান কেড়ে নিয়েছে। সেই জবান আমাদের ছিনিয়ে আনতে হবে। আমরা যারা মনে করি আপস করে সাংবাদিকতা করব, যারা মনে করি—ফ্ল্যাট, গাড়ি-বাড়ির বিনিময়ে আজকে আমরা সুখে আছি, যারা ১৪ বছর সুখে আছেন, দিন গুনুন, আগামী দিন আপনাদের সুখের দিন নয়, আগামী দিন আপনাদের চরম দুঃসময়ের দিন।”

আরও পড়ুনঃ  সাঈদীর মৃত্যুতে শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের স্ট্যাটাস

২০২০ সালের ১০ মার্চ নিখোঁজ হন কাজল। ৩ মে বেনাপোলে তার খোঁজ মেলে। পরে তাকে সেখানেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রায় ৮ মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

কাজলের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবাণী। বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতা ও নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে। কাজলের মতো অনেক সাংবাদিককে গুম করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে, এমনকি হত্যা করা হয়েছে। সরকারের এই নিপীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিকদের তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে স্বাধীন হতে হবে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *